আখলাক ও চারিত্রিক গুনাবলীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সাঃ)

84

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সম্পাদকীয়ঃ-মিজানুর রহমান মিজান।ডেগিল্যার বিল সাবরাং,টেকনাফ।১৭রমজান ২৪ মে,২০১৯

আলহামদুলিল্লাহ,মহান আল্লাহর দরবারে শুকরীয়া যিনি এই চন্দ্র সুর্য্য আকাশ ভূমন্ডল ও আটারো হাজার মাখলুখের সৃষ্টিকর্তা,পালন কর্তা,হায়াত এবং মৃত্যুদাতা,রিযিক দাতা।অদৃশ্য গায়েব দৃশ্যত সবকিছুতেই যিনি জ্ঞাত,সর্বত্রই বিরাজমান।

শুকরীয়া দয়াময় রাহমানুর রাহীম মহান আল্লাহর দরবারে যিনি আমাদের কে সকল বালা মুসিবত থেকে মাহফুজ রেখে এই রহমতের বরকতের মাগফেরাতের পবিত্র মাসে সৃষ্টিকর্তার কাছে মরযাদাপূর্ণ রোজা রাখার তৌফিক এনায়েত করেছেন।দেখতে দেখতে আজ সতের রমজান।আজ আলোচনা করব সংক্ষিপ্ত ভাবে” সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহা মানব খাতমুন্নবী,রাহমাতুল্লীল আলমীন,শফীউল মুরসালীন,নূরে আলা নূর এবং মানবজাতীর মুক্তির একমাত্র উছিলা মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ (সাঃ)’র চারিত্রিক ও আদর্শের গুনাবলী নিয়ে**আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মদনিন্নবীয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা*

সংক্ষেপে তার গুণাবলীঃ

যে ব্যক্তি খুবই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রাসুল (সাঃ) এর দিকে তাকাবে সে দেখতে পাবে তার চরিত্র ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের। কোন মানুষ তার সমকক্ষ হওয়া তো দুরের কথা তার কোন একটি গুণাবলীর সমানও হতে পারবে না। তাকে যিনি শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি হলেন মহান প্রভু আল্লাহ্‌ তায়ালা।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন:
أَدَّبَنِىْ رَبِّىْ فَأَحْسَنَ تَأْدِيْبِىْ
অর্থাৎ, আমার রব আমাকে সর্বোত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন।(আল ফাওয়ায়েদুল জালিয়্যাহঃ ১/১০১; হাদীসটির অর্থ সহীহ; দেখুন-

(আত তাজকেরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারাহঃ ১/১৬০, কাশফুল খিফাঃ ১/৮১, ১/৭০,)

আল্লাহ্‌ তায়ালা এ সম্বন্ধে বলেন:
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)
অর্থাৎ, আর নিশ্চয় আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। (সুরা আল ক্বালামঃ ৪) কেন তিনি এ রকম হবেন না অথচ, তিনি মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার আশ্রয়ে দেখাশোনার মধ্যে ছিলেন।

আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন:
فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا
অর্থাৎ, আর আপনি আমার চোখে চোখেই আছেন। (সুরা তুরঃ ৪৮)

অপরদিকে তিনি মুসা (আঃ) সম্বন্ধে বলেছেন:
وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي
অর্থাৎ, আর [আমি চাই] তুমি যেন আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও। (সুরা ত্বাহা: ৩৯)

“চোখের সামনে রাখতে চাওয়া’ এবং “চোখে চোখে রাখা” এ দুইয়ের মধ্যে কতই না পার্থক্য!!!! এখান থেকেই তার সুমহান চরিত্রের বর্ণনা স্পষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর অনেক বড় মনীষীর ভিতরে তার সমপরিমাণ একটা গুণ পাওয়া যদি খুবই দুর্লভ হয়, তাহলে তার সবগুলো গুণাবলী তাদের মাঝে কিভাবে পাওয়া সম্ভব হবে???

রাসুল (সাঃ) এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যঃ

১। ধৈর্যঃ নিজেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বদা আল্লাহ্‌ তায়ালার আনুগত্যের উপর অটল রাখা, অবাধ্যতার নিকটবর্তী না হওয়া, তার সিদ্ধান্তের কারণে হা হুতাশ না করা এবং তাতে রাগান্বিত না হওয়ার নামই ধৈর্য।

রাসুল (সাঃ) ইসলামের দাওয়াতকে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করতে গিয়ে কুরাইশদের কাছ থেকে অমানুষিকভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে ধৈর্যধারণ করেছেন। তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন দুঃখের বছর, যুদ্ধক্ষেত্র, ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, ক্ষুধা ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে। কোন ষড়যন্ত্রই তাকে দুর্বল করতে পারেনি এবং কোন পক্ষই তাকে টলাতে পারেনি।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন:
هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ، قَالَ: ” لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ مَا لَقِيتُ، وَكَانَ أَشَدَّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ العَقَبَةِ، إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلاَلٍ، فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ، فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي، فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلَّا وَأَنَا بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي، فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ، فَنَادَانِي فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ، وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ، وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ، فَنَادَانِي مَلَكُ الجِبَالِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، فَقَالَ، ذَلِكَ فِيمَا شِئْتَ، إِنْ شِئْتَ أَنْ أُطْبِقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ مِنْ أَصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ وَحْدَهُ، لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا “

অর্থাৎ,আপনার কাছে কি এমন কোন দিন এসেছে যা উহুদের চেয়েও কঠিন দিন ছিল? রাসুল (সাঃ)বলেন:আমি তোমার কওম থেকে এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি যা বর্ণনাতীত।আর আকাবার দিন(তায়েফের ঘটনা)ছিল তাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠিন অবস্থা!!আমি নিজেকে সমর্পণ করলাম ইবনে আবদি ইয়ালিল ইবনে আব্দি কুলাল গোত্রের কাছে;কিন্তু,তারা আমার ইচ্ছায় সাড়া দিল না।অতঃপর আমি চেহারায় দুঃখের ছাপ নিয়ে ফিরে আসছিলাম।আমি যখন সম্বিত দিরে পেলাম তখন আমি ছিলাম-”ক্বারনে ছা’য়ালেব” নামক স্থানে।আমি মাথা উপরের দিকে তুললাম।দেখলাম একখন্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিয়েছে।সেখানে জিবরাইল (আঃ)এর সাক্ষাত পেলাম।তিনি আমাকে ডেকে বললেন:আল্লাহ্ তায়ালা কওমের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য ও তাদের জবাব শুনেছেন।তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন।তাদের ব্যাপারে আপনার যা খুশি তাকে নির্দেশ দেবেন।পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিয়ে বললেন,হে মুহাম্মাদ (সাঃ)!!আপনি যা চান তাই হবে।যদি আপনি বলেন তাহলে,আমি তাদের উপর পাহাড় দুটি চাপিয়ে দেব।রাসুল (সাঃ)বললেন:[না!!!]বরং,আমি চাই তাদের ঔরসজাত সন্তানদের মধ্য থেকে এমন কেউ বের হোক যে একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদাত করবে তার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করবে না।(বুখারী-৩২৩১,মুসলিম-১৭৯৫)

২।ক্ষমা করাঃ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নেয়ার নামই ক্ষমা।মক্কা বিজয়ের দিনে রাসুল(সাঃ)মক্কার লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করছিলেন।তারা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে তার নির্দেশেরই অপেক্ষা করছিল।তিনি বললেন:হে কুরাইশগণ !!!তোমরা আমার কাছ থেকে আজ কেমন ব্যবহার আশা কর? তারা বলল:সম্মানিত ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মত!!!তিনি বললেন:তোমরা চলে যাও!!!আজ তোমরা মুক্ত!!!তারা তাকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন,তিরস্কার,সামাজিকভাবে বয়কট করা এমনকি হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন।

৩।সাহসীকতাঃ কথাবার্তা,মতপ্রকাশ ও কোন কাজ করতে যাওয়ায় সাহসীকতা প্রদর্শন একটা অত্যন্ত চমৎকার গুণাবলী।রাসুল(সাঃ)যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন সকল মানুষের চেয়ে বেশী সাহসী।তার মত সাহসী মানুষ কোন চোখ দেখেনি।বীর সিপাহী হযরত আলী (রাঃ)বলেন:যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হত তখন আমরা রাসুল (সাঃ)কে আড়াল নিয়ে আত্মরক্ষা করতাম।

আজকের আলোচনার বরকত উৎসর্গ করলাম পেয়ারা নবী(সঃ)ও যুগে যুগে যত নবী রসুল আওলীয়া আম্বীয়া গাউস কুতুব পৃথিবীতে এসেছিল সবার আরওয়া পাকের উপর এবং আমার মরহুম মা বাবা ও মরহুম দুই ভাই আলহাজ্ব রশিদ আহমদ(আধ্যাত্তিক গবেষক)ও মরহুম মুহাম্মদ ইব্রাহিম এর রুহ মোবারকের প্রতি।আল্লাহ ওনাদের জীবনের সমস্ত কবীরা সগিরা জানা ওজানা ভূল মাফ করে কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি দিন।আমিন,আল্লাহ সবাইকে সুস্থ সুন্দর জীবন দিন।মিজান 17রমজান রাত 02:39

অন্তর থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি

মোহাম্মদ আলমগীর ভাইকে টেকনাফের বহুল প্রচারিত কালেকশন ডটকম,এ লেখার সুযোগএত সুন্দরভাবে করে দেয়ার জন্য।

1 মন্তব্য

  1. আল্লাহ পৃথিবীর সকল মানুষকে নূর নবী(সঃ)’র জীবনাদর্শ মেনে চলার তৌফিক দিন।আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here