“বন্ধন ভাই বোনের”

62

মোঃ আলমগীর, টেকনাফ ::

মাদের পারিবারিক জীবনটাকে পরিপূর্ণ সুখের আমেজে ভরিয়ে রাখতে চাই আমরা সবাই। এ জন্য কত চেষ্টা আমাদের। পারিবারিক আনত্মঃসম্পর্ক অর্থাৎ বাবা-মায়ের সঙ্গে ছেলে-মেয়েদের ভাই-ভাইয়ে কিংবা ভাই-বোনে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে পুত্রবধূর। ভাবির সঙ্গে দেবর-ননদদের পারস্পরিক সম্পর্ক যদি ঠিকভাবে ঠিকপথে না চলে, মনোমালিন্য আর ঝগড়া বিবাদের অস্বসত্মিকর পরিস্থিতি বজায় থাকে, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থাকে তাহলে সেই পরিবারে সুখ-শানত্মি-সমৃদ্ধি হারিয়ে যায়। সুখের বদলে দুঃখ আর অশানত্মি বাসা বাঁধে সেই পরিবারে। সঠিকভাবে সম্পর্কের বিকাশ না ঘটায় পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ঘাটতি থেকে যায় অনেক বেত্রে। আবার কোন কোন বেত্রে স্বার্থপরতা, অতিলোভ, উদারতার অভাব, সেক্রিফাইজিং মনোভাবের ঘাটতি আমাদের পারিবারিক জীবনযাপনে অশোভন পরিস্থিতি ও ঘটনার জন্ম দেয়। যা থাকে সবার অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ৰিত। একজন নারী যদি পরিবারে তার অবস্থানটি ঠিকমতো প্রতিষ্ঠিত করে অন্য সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে তাহলেও পারিবারিক জীবনে সুখ অনেকটা নিশ্চিত হয়।
প্রথমেই দেখা যাক, একজন নারী বা মেয়ে সংসারে বোনের ভূমিকায় কিভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সব ভাইবোনের মধ্যেই শৈশব একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বুনে দেয়। এই সম্পর্কটাকে অটুট রাখার খানিকটা দায় থাকে বোনেরও। ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে সে সব মিটিয়ে দেয়ার বদলে একটি মেয়ে যদি সহজাত এই সম্পর্কে ফাটল বাড়তে দেয় তাহলে বোন হিসেবে মেয়েটি তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ভাই ভুল পথে পা বাড়ালে, তাকে সঠিক পথ দেখানো বোনের জন্য জরম্নরী। ভাই-বোনের সম্পর্কের আরেকটা ক্রাইসিস পয়েন্ট হলো বিয়ের পর ভাইয়ের বউকে নিয়ে এক ধরনের জেলাসি বা ঈর্ষা। এটা একটা সহজাত ব্যাপার। ভাইয়ের ওপর বোনের অধিকার কমে যাচ্ছে, এটা ভাইয়ের বিয়ের পর অনেক বোনের মধ্যে দেখা যায়। সবাইকে বুঝতে হবে কোন সম্পর্কেই খবরদারি, দখলদারি, কড়াকড়ি খাটে না। বরং পরস্পরের ইচ্ছাকে সম্মান করার মধ্য দিয়েই সম্পর্ক বেঁচে থাকে।
ভাইয়ের মনে আঘাত দেবেন না। ভাই যদি কোন দোষত্রম্নটি করে ফেলে তাকে শুধরে নিতে সুযোগ দিন। কঠোর ব্যবহার বা তিক্ত আচরণ নয় আবেগ তার সম্প্রীতিকে আপনার অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগান।
ভাইয়ের সঙ্গে বোন হিসেবে আপনার সম্পর্ক যত জোরদার হবে, ততই ভাই আপনার জীবনে একটা বিরাট সহায়তা ও নির্ভরতার উৎস হয়ে দাঁড়াবে। ভাইয়ের ভালবাসা, বিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে অনুভব করবেন আপনি এক অমূল্য সম্পদের অধিকারী।
সম্পর্কটিকে সুন্দর আর নির্ভরযোগ্য করে তোলার জন্য অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। সহিষ্ণু ভাব ধরে রাখতে হবে নিজের মধ্যে। অনেক আন্ডারস্ট্যান্ডিং, কেয়ারিং হতে হবে।
ভাইয়ে-ভাইয়ে, ভাই-বোনে কিংবা বোনে-বোনে এক ধরনের ঈর্ষাকাতরতা দেখা যায় যাকে বলে সিবলিং জেলাসি’। এটা খুবই সাধারণ ঘটনা হলেও এর ফলে অনেক সময় পরিবারে নানা জটিলতা দেখা দেয়। তবে একটা বয়স পর্যনত্ম এটা থাকতে পারে তারপরে নয়। বয়স পেরিয়ে যাবার পরেও সিবলিং জেলাসির জের টেনে চলাটা হাস্যকর। এ বিষয়ে সবার মনোযোগ রাখা প্রয়োজন। বোন হিসেবে আপনাকে সিবলিং জেলাসির কবল থেকে মুক্ত হতে হবে। ভাইকেও মুক্ত করতে হবে এর কবল থেকে।
ভাইয়ের বউকে ভালবাসা দিয়ে আপন করে নিন। যাতে তার কারণে আপনার আর ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব কখনোই তৈরি হতে না পারে।
ভাইয়ের সুসময়ে দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করম্নন। বিয়ে হয়ে যাবার পরেও স্বামীর সংসার থেকে যতটা সম্ভব ভাই-বোনদের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করম্নন। যেতে না পারলেও নিয়মিত টেলিফোনে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করম্নন।
যদি আপনি পরিবারে সবার বড় হয়ে থাকেন, ভাইবোনদের মধ্যে বড় হন, তাহলে বড় বোন হিসেবে ছোট ভাই-বোনদের দিকে স্নেহ ভালবাসার দৃষ্টি ধরে রাখুন। তাদেরকে অভিভাবক হিসেবে গাইড করম্নন। ঠিকভাবে ঠিক পথে চলতে বুদ্ধি-পরামর্শ দিন। প্রয়োজনে তাদেরকে শাসন করম্নন। বাবা-মায়ের অবর্তমানে বড় বোন হিসেবে আপনাকে পরিবারের অনেক বিষয়ই দেখাশোনা করা উচিত। মেয়ে মানুষ বলে দায়িত্ব এড়িয়ে চলাটা কোনভাবেই উচিত নয়।
পরিবারে যদি আপনি ছোটবোন হয়ে থাকেন তাহলেও আপনার উচিত বড় ভাই-বোনদের খোঁজখবর নেয়া। আপনি ছোট বলে সবার আলাদা আদর পাবার দাবিদার। এটা মানছি। কিন্তু সব সময় একতরফা স্নেহ আদর ভালবাসা পাবেন তেমনটি আশা করে বসে থাকাটাও উচিত নয়। অনেকেই বড় ভাই-বোনেরা খোঁজখবর নেয় না বলে অভিমানে গাল ফুলিয়ে বসে থাকেন। এটা ঠিক নয়। আপনাকেই নিজে থেকে ভাই-বোনদের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক ধরে রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।
বর্তমান জটিল জীবনযাপনে আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে খুব বেশি ব্যসত্ম থাকি। আপনার যতটা সামর্থ্য আছে তা থেকেই অন্যান্য ভাই-বোনদের সহায়তা করার মানসিকতা ধরে রাখুন। বোন হিসেবে আপনি যদি অন্য ভাই-বোনদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, হাত বাড়িয়ে দেন, তারাও নিশ্চয়ই আপনার অসময়ে বিপদে-আপদে পাশে এসে দাঁড়াবে, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতা করবে।
অনেক মেয়েই স্বামীর অগোচরে লুকিয়ে লুকিয়ে ভাই-বোনদের সাহায্য সহযোগিতা করে। এটা ঠিক নয়। যা করবেন স্বামীকে জানিয়ে করবেন। তাকে ভালভাবে বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন আপনার ভাই-বোনদের প্রতি সেও অনেক সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছে।

ছবি ও সহযোগিতায়  : মিজানুর রহমান মিজান

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here