উখিয়া টেকনাফে এমপি শাহীন বদি’র প্রচেষ্টায় অসহায় ৩০টি পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর

185

 

মোঃ আলমগীর,টেকনাফ ::
দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ও দারিদ্র বিমোচনে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় “যার জমি আছে ঘর নেই,তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের টেকনাফ উখিয়ায় ৩০টি গরীব ও অসহায় পরিবারের মাঝে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যাদের ১ থেকে ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই বা ঘর থাকলে ও তা বসবাসের অনুপযোগী এমন পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য প্রতিটি গৃহ নির্মাণে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দ প্রদান করা হয়। আর বর্তমানে এসব গৃহ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং কোথাও কোথাও গৃহ নির্মাণ শেষে উপকার ভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ওই গৃহে বসবাস করে আসছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জাহালিয়া পাড়া গ্রামের উপকার ভোগী পরিবার কালা মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, ‘আমার স্বামী একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী। তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। আমার দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি এ গৃহ পেয়ে অনেক আনন্দিত বলে জানান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানান।’

তার মতো আরো কয়েকজন জানান, ‘আমাদের আংশিক জমি থাকলেও গৃহ নির্মাণের সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহতি উদ্যোগ ও স্থানীয় কক্সবাজার-৪ উখিয়া টেকনাফ আসনের নবম ও দশম জাতীয় সংসদের জনপ্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি’র সহধর্মিণী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার বদি’র প্রচেষ্টায় আমরা মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছি।’

টেকনাফে “যার জমি আছে ঘর নেই,তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” প্রকল্পের আওতার দায়িত্বপ্রাপ্ত গৃহ নির্মাণ ঠিকাদার মোঃ আবুল কালাম দৈনিক দেশকালকে জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনো প্রকার ত্রুটি না রেখেই প্রতিটি গৃহ নির্মাণের চেষ্টা করেছি। তিনি আরো জানান, প্রতিটি ঘর নিজের ঘরের মতো ভেবে আন্তরিকতার সাথে পাকাকরণ করেছি।’

টেকনাফ সদর মডেল ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান-২ আবু সৈয়দ মেম্বার দৈনিক দেশকাল’কে জানান,‘আমার ইউনিয়নে যেই কয়টি ঘর পেয়েছি। যারা পাওয়ার উপযুক্ত এমন ব্যক্তিদের সনাক্ত করে ঘর গুলো দেয়া হচ্ছে।’ এ অসহায় পরিবার গুলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুব খুশি।

টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম দৈনিক দেশকালকে বলেন,‘অন্য যে কোনো প্রকল্পের চেয়ে গরীবদের মাঝে গৃহ নির্মান বরাদ্দ সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গরীব অসহায় পরিবারের লোকজন উপকৃত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান দৈনিক দেশকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার উখিয়া টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার বদি’র প্রচেষ্টায় টেকনাফে ১৫টি ঘর পেয়েছি। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেশ ক’টি ঘর সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যায়নি।’

তিনি আরো জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় “যার জমি আছে ঘর নেই,তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ”। প্রকল্পের আওতায় টেকনাফের জন্য পরবর্তীতে আরো ঘর বরাদ্দের জন্য তালিকা করা হবে। তালিকা অনুযায়ীই পর্যায়ক্রমে সকলেই ঘর বরাদ্দ পাবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here