কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে আসছে গরু

2

মিজানুর রহমান মিজান ::এবারের কোরবানির ঈদ(ঈদুল আজহা)সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে বুট ও ট্রলারে করে গবাদি পশু আসা শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে ১৬টি ট্রলারে মোট ২ হাজার ১২৯টি পশু আসার খবর পাওয়া গেছে।

শাহ পরীর দ্বীপ করিডোর’সহ গরুর আড়তের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি জুলাই মাসে বৈরী আবহাওয়া ও মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২০ দিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন পশু ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ার পর ফের গবাদি পশু আমদানি শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলছে ব্যবসায়ীদের।
টেকনাফের শুল্ক স্টেশনের তথ্য মতে, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে করিডোরে ৯টি ট্রলারে ১ হাজার ২৪৪টি গবাদি পশু এসেছে। এতে রাজস্ব আদায় হয় ৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। এছাড়া, সোমবার (২৯ জুলাই) এসেছে ৮৮৫টি গবাদি পশু। এই দুই দিনে মিয়ানমার থেকে মোট ২ হাজার ১২৯টি গবাদি পশু আসে। এর আগে জুলাই মাসে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৬টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭০টি গরু এবং ২ হাজার ৪৯৬টি মহিষ ছিল।

পশু আমদানিকাররা বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও মিয়ানমার থেকে পশু আসা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কোরবানির ঈদে রেকর্ডসংখ্যক পশু আমদানি হবে। আর আমদানি স্বাভাবিক থাকলে পশুর হাটের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।’ তিনি জানান, গবাদি পশু আমদানি এবং কেনা-বেচায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং কোথাও কোনও ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।

একাধিক পশু ব্যবসায়ী জানান, টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপে যাতায়াতে সমস্যা আছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে করিডোর সংলগ্ন এলাকায় ব্যাংক এবং শুল্ক স্টেশনের অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা গেলে পশু ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হতো।

টেকনাফের শুল্ক কর্মকর্তা ময়েজ উদ্দীন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করে এই করিডোর রাজস্ব আহরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত কয়েকদিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। সোমবার (২৯ জুলাই) থেকে ফের পশু আসা শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমদানি অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। পশু আমদানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরটি শুল্ক স্টেশনের আওতাধীন একটি জোন। মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে গবাদি পশু আসা রোধ করতে ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপে বিজিবির চৌকি সংলগ্ন এলাকায় এই করিডোরটি চালু করা হয়। আমদানি করা গবাদি পশু প্রথমে বিজিবির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। পরে সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে রাজস্ব জমা এবং স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের অনুমতি নিয়ে গবাদি পশুগুলোর জন্য করিডোর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here