টেকনাফে বিদ্যুৎ সমাস্যা সমাধানে পাওয়ার গ্রীড স্থাপনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে- জিডিএম আবুল মুমিত চৌধুরী

143

মোঃ আলমগীর, টেকনাফ ::
কক্সবাজারের টেকনাফে পাওয়ার গ্রীড স্থাপিত হলে সমাধান হবে লোডশোডিং সমস্যা, বর্তমানে কক্সবাজার ১৩২-৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে দীর্ঘ ৯৫ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে টেকনাফে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে কক্সবাজার-টেকনাফ ৩৩ হাজার ভোল্ট এর স্থলে হয়ে যায় ২২ হাজার ভোল্ট। ৩৩ কেভি লাইনে সংযুক্ত সোনার গ্রিডের এর কারনে দিনের বেলায় ভোল্টেজের একটু উন্নতি হলেও রাতে শুরু হয়ে যায় লো-ভোল্টেজ সমস্যা। এত লো ভোল্টেজ টেকনাফের সকল এলাকায় বিদ্যুৎ চালু রাখলে উপকেন্দ্র সহ গ্রাহকগনের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম পুড়ে যেতে পারে। বাধ্য হয়ে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি টেকনাফ জোনাল অফিস হতে বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
লো-ভোল্টেজ সমস্যা নিরসনে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক টেকনাফ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ১১ কেভি সাইডে ভোল্টেজ রেগুলেটর স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এতে ভোল্টেজ ২৩০ ভোল্ট এর উন্নতি করা সম্ভব হয় নাই।

এব্যাপারে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের জিডিএম মোঃ আবুল মুমিত চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের প্রভূত উন্নতি সাধিত করলেও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড পিজিসিবি এর কারিগরি সমস্যার কারণে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। টেকনাফ উপজেলায় বিদ্যুৎ প্রয়োজন ১৬ মেগাওয়াট সাবরাং টুরিজম পার্কের প্রয়োজন ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর কক্সবাজার থেকে ১০০ কিঃ মিঃ দুর হতে ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩টি (এবিআর) স্থাপন করা হয়েছিল। এতে ২০% ভোল্টেজ উন্নতি হলেও সম্পূর্ণরূপে ভোল্টেজ উন্নতি হচ্ছে না। পিজিসিবি কর্তৃক একটি গ্রিট টেকনাফে করা হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলো মনে করেন মোঃ আবুল মুমিত চৌধুরী। এসময় তিনি আরো বলেন, টেকনাফ উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সেবার উদ্দেশ্যে আমার দপ্তর উম্মোক্ত থাকবে৷ যে সব বাড়ী ও গ্রাম মহল্লায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের আলো পৌছেনী ,তাদের বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌছে যাবে। তবে এক্ষেত্রে আমার দপ্তর তাদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০১৮ সালের প্রতি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার জন্য যে অঙ্গীকার করেছেন আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বদ্দপরিকর৷ এজন্য টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস গ্রাহকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে৷ বর্তমানে ১৬ মেগাওয়াটে বিদ্যুৎ আওতায় ৪৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,জাতীয় গ্রীঢ় লাইন হতে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ নেওয়া হয়৷লো-ভোল্টেজ এর কারনে সব এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে না পারায় লোডশেডিং করেত বাধ্য হয়৷এক্ষেত্রে বাহারছড়া ও শাহ্পরীরদ্ধীপে লোডশেডিং মাত্রা বেশি হয়৷অপর দিকে হ্নীলা আলীখালী নাফ নদীর তীরে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দিনের বেলায় পুরো টেকনাফে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়৷ তবে লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিং থেকে মুক্ত হতে হলে টেকনাফে একটি স্বয়ংক্ষ্রিয় গ্রীক লাইন স্থাপনের আওতায় আনলে এই সমস্যা চিরতরে দূরবীত হবে৷

তিনি মনে করেন,স্থায়ী সমাধান করতে হলে টেকনাফে একটি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন করা হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে কিন্তু এতে “পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড” কে টেকনাফে একটি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here