তারেককে ১২ কোটির বিএমডব্লিউ গাড়ি দিয়েছিলেন লোকমান

46

কালেকশন নিউজ ডেস্ক ::
ক্যাসিনোর টাকায় প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই উপঢৌকন দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। অপরদিকে প্রকল্পের কোন কাজ না করেই ৩শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন টেন্ডারকিং জিকে শামীম। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই যুবলীগের দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন স¤্রাটের গ্রেফতারের ধোঁয়াশে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। অপরদিকে ক্যাসিনো পরিচালনার আড়ালে জুয়া, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ এবং ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ২০১৭ সালের লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একটা গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন লোকমান এখন রিমান্ডে। লোকমান স্বীকার করেছে যে তারেক রহমানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তিনি বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে গিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে দেখাও করতেন। এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে দুইবার নৈশভোজেও মিলিত হয়েছিলেন বলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে স্বীকার করেছেন লোকমান। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

বর্তমানে তিনি মাদক আইনে দায়ের একটি মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন। আটকের পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসেন লোকমান। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে তার নানা কর্মকান্ডের ফিরিস্তি। অবৈধ ক্যাসিনো থেকে অঢেল টাকা কামিয়েছেন এই লোকমান। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ব্যাংকে তিনি ৪১ কোটি টাকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। এই লোকমানই ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার রুমে টাঙ্গানো বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে সেই ছবিটি ভাঙচুর করেন। অথচ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিসিবির পরিচালক হয়েছেন লোকমান এবং এই সরকারের আমলেই ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হয়েছেন তিনি।

সারাদেশে চলমান সাঁড়াশি অভিযানে আতঙ্কে রয়েছেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর দুর্নীতিবাজ নেতা-কর্মীরা। আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। জানা গেছে, গ্রেফতারের আতঙ্কে সংগঠনগুলোর দুর্নীতিবাজ নেতারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সতর্ক অবস্থানে থেকে চলাফেরা করছেন। শুদ্ধি অভিযানের পর থেকে রাজধানীতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বহু নেতা গা-ঢাকা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা এখন অনেকটাই নিশ্চুপ। আত্মগোপনে চলে গেছেন বহু নেতা। কেউ কেউ চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। আবার কেউ পালিয়ে গেছেন দেশ ছেড়ে।

জানা গেছে, টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার সুবাদে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর এক শ্রেণীর নেতা-কর্মী নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অন্যদল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যোগদানকারী হাইব্রিড নেতা-কর্মীদের অনেকেই মন্ত্রী-এমপিদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব অপরাধ করে আসছেন, যা দল ও সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। এ অবস্থায় টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় আর কোন ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। মাদক, অস্ত্র এবং মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের হওয়া এসব মামলায় করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এগুলোর প্রায় প্রতি ঘটনার সঙ্গে যুবলীগের আলোচিত নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া সম্রাটের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসা, বিদেশে অর্থ পাচারসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে নাকি ধরা হচ্ছে না-এ নিয়ে রীতিমতো লুকোচুরি খেলা চলছে। তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here