নবাগত ওসি মনসুরের কর্মদক্ষতায় উখিয়ার আইনশৃঙ্খলা দেশের মডেল!

98

এস এম হুমায়ূন কবির ::
কক্সবাজারের উখিয়া থানার নবাগত চৌকস অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর যোগদানের পর ইয়াবা কারবারীরা যেমন আত্মগোপনে চলে গেছে তেমনি অপরাধী চক্রের ও দেখা মিলছে না ফলে উখিয়ার আইনশৃঙ্খলা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল মনে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র গুলো।ক্রাইম ও তুলনামূলক কমে গেছে।উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং এলাকার জুলফিকার আলী জানান,উখিয়া থানায় জমিজমা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলাম ১ আগস্ট। থানায় ঢু মারতে মূল ফটকের পাশে ডিউটি অফিসারের কাছে গিয়ে অভিযোগ খানা দেখানো হলে তিনি অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুরের কাছে নিয়ে যান।অফিসার ইনচার্জ সমস্যার বিস্তারিত জেনে একজন সাব ইন্সপেক্টর কে ডেকে বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে সমাধানের নির্দেশ দেন।যেমন নির্দেশ তেমন কাজ।ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক ছুটে যান দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা।তাৎক্ষণিক উভয় পক্ষ কে নিয়ে সমস্যা সমাধান করে দেন দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ অফিসার।ফলে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গে র যে সম্ভাবনা ছিল তা মূহুর্তেই নিষ্ফল হয়ে যায় বলে জানালেন জুলফিকার।
১ আগস্ট সকাল ১১ টায় রুমখাঁপালং এলাকার মৌলানা সালেহ আহমেদ।তিনি প্রতিবেশী জালাল আহমদ কর্তৃক প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিতে আছেন।নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত নেন।থানায় এসে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর কে জানালে অফিসার ইনচার্জ ডিউটি অফিসার কে ডেকে জিডি খানা লেখার নির্দেশ দেন।দশ/ পনের মিনিটের মধ্যে জিডি এন্ট্রি করেন ডিউটি অফিসার। মাওলানা সালেহ জানান, জীবনে প্রথম নিজে দেখলাম জিডি লিখতে ও জিডি এন্ট্রি করতে কোন টাকা নেয়না পুলিশ।এমন উদ্যোগে মহাখুশি মাওলানা সালেহ।তিনি জানান, পুলিশ আর আগের পুলিশ নেই।এখন শেখ হাসিনার ডিজিটাল পুলিশ। আর পুলিশে এমন ভদ্র,নম্র, বিনয়ী, সৎ, নিষ্ঠাবান অফিসার খুবই বিরল।ওসি মোঃ আবুল মনসুরের মতো সৎ অফিসার যদি বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় থাকতো দেশে একটা ক্রাইম ও হতো না।
বেলা ১২ টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে আসেন স্হানীয় রাবেয়া বশরী নামের ৪০ বছরের এক নারী।তিনি বাপ- দাদার ওয়ারিশ সূত্রে রাবেয়াদের বসবাস।এখন রাবেয়া দের ভিটি বাড়ী ছাড়া অবশিষ্ট জায়গা রোহিঙ্গাদের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত এনজিও কর্মকর্তাদের ভাড়া বাসা করে জবর দখলে নিয়েছে স্হানীয় চিহ্নিত ভুমিদস্যু গডফাদার।এবার ওই ভুমিদস্যুর নজর পড়েছে রাবেয়ার বসতবাড়ির উপর।বেশ কয়েকবার জবর দখলের ব্যর্থ চেষ্টা ও চালিয়েছে ভুমিদস্যু চক্র।আইনী সহায়তা চাইতে উখিয়া থানায় আসেন অফিসার ইনচার্জ এর দপ্তরে।ওসি মোঃ আবুল মনসুর রাবেয়ার বর্ননা শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান।ভুমি জবরদখলকারী চক্র পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতা দেখে ছটকে পড়েন। ফলে জবরদখলের হাত থেকে রেহাই পান রাবেয়া দের শত বছর পুরনো বসত ভিটা। উপরে উল্লেখিত ঘটনা গুলো শুধু নয়। সারাদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস ভাবে কাজ করছে নবাগত উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর এর নেতৃত্বে উখিয়া থানা পুলিশ।সারাদিন উখিয়ার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে মনে হলো উখিয়া এখন সারাদেশের মডেল।
নবাগত উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর এ প্রতিবেদক কে জানান, উখিয়া উপজেলার কোথাও ইয়াবা ব্যবসায়ী,ভুমিদস্যু,মাদক চোরাকারবারি ও চোরাচালানিদের স্হান হবে না।ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কবর রচনা করে উখিয়া কে একটি শান্তির উপজেলায় পরিনত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ভাবে কাজ করছে উখিয়া থানা পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here