মৎস আহরণ বন্ধে জেলেদের জন্য সহায়তার ঘোষনা।

32

৬৫ দিন মৎস্যআহরণ বন্ধ, খাদ্যসহায়তার ঘোষণা

নিউজ ডেস্কঃ- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত একটানা ৬৫ দিন পর্যন্ত সকল প্রকার যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মৎস্যযান কর্তৃক মৎস্য ও ক্রাস্টিয়ান্স (চিংড়ি, লবস্টার, কাটলফিশ ইত্যাদি) আহরণ সর্ম্পর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসময় সামদ্রিক মাছসমূহের প্রজনকাল হওয়ায় ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশসৃষ্টিসহ মাছের মজুদসংরক্ষণ, সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণনিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞারোপ করেছে মৎস্য ও প্রানিসম্পদমন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উপকূলীয় ১২টি জেলাধীন ৪২ উপজেলার ৪,১৪,৭৮৪টি জেলেপরিবারের মাছ-আহরণ ব্যতিত বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় এবারই প্রথম নিষিদ্ধকালীন ৬৫দিনের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় পরিবারপ্রতি মাসিক ৪০ কেজি করে মোট ৩৬ হাজার মেট্রিক টন চালসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ঈদের আগেই এ খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে বলে সংবাদসম্মেলনে জানানো হয়। মাছের তিনটি নিষিদ্ধসময়ের জন্য আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২২৫ কোটিটাকা বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, ৮ মাস জাটকানিধরোধ এবং ২২দিন মা-ইলিশসংরক্ষণের মতন ৬৫দিনের জন্যও ভিজিএফ খাদ্যসহায়তার ফলে জেলেপরিবারের খাদ্যসংস্থান হওয়ায় তারা সামুদ্রিক ডিমওয়ালা মাছ ও চিংড়ি আহরণ থেকে বিরত থাকবে এবং ডিমওয়ালা মাছ ও চিংড়ির নিরাপদপরিবেশ সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে ২৫৫টি বানিজ্যিক মৎস্যট্রলার, ৩২ হাজার ৮৫৯টি যান্ত্রিক ও ৩৪ হাজার ৮১০টি অযান্ত্রিক ফিশিংবোট কর্তৃক নির্বিচারে মৎস্যআহরণের ফলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এজন্যই সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ ১৯৮৩” এর অধীনে বিধি ১৯দ্বারা ২০১৫ সাল হতে প্রতিবছর প্রধানপ্রজনন মৌসুমে মোট ৬৫ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় বাণিজ্যিক ট্রলারসহ সকলপ্রকার নৌযানদ্বারা মাছ, চিংড়ি ও চিংড়ি জাতীয় মৎস্যআহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ৩২ সহস্রাধিক যান্ত্রিক মৎস্যযান সমুদ্রে মাছধরায় জড়িত থাকলেও এদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৪০০টি মৎস্যযান বৈধ বা নিবন্ধিত থাকায় অবৈধ নৌযানের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে।

প্রতিমিন্ত্রী আরও বলনে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে মোট ৪২.৭৭ লক্ষ মে.টন মাছ উৎপাদিত হওয়ার মাধ্যমেই দেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই উৎপাদনের মধ্যে সামুদ্রিক মৎস্যখাতরে অবদান ৬.৫৬ লক্ষ মে. টন, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৫.৩৩ শতাংশ।

সংবাদসম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছ উল আলম মণ্ডল, মৎস্য অধিদফতরের ডিজি আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি ড. ইয়াহিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here