‘মড়ার উপর খড়ার ঘা’ শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার ভূমিহীন ২০০ পরিবারের

29

আব্দুর রহমান, টেকনাফ ::
কক্সবাজারের টেকনাফ শাহ্পরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়ার ভূমিহীন দুইশ’ জেলে পরিবারের দিন কাটছে উচ্ছেদ আতঙ্কে। সীমান্ত নিরাপত্তা সড়ক নির্মাণ ও বেড়িবাঁধের সংস্কারের জন্য তাদের সাত দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার নোটিশ দিয়েছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে সরে যেতে তারা বর্ষা পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। পাশাপাশি পুনর্বাসনেরও দাবি জানিয়েছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) পাউবো কর্মকর্তারা শাহ্পরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ায় উপস্থিত হয়ে দুইশ’ পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। কক্সবাজার পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে সাত দিনের মধ্যে বাঁধের আশপাশে নির্মিত ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সরিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর মানববন্ধনে ভূমিহীন জেলেরা দাবি করেন, নাফনদের তীরে তাদের অনেকের স্থায়ী বসবাস ছিল। তবে ভাঙনের কারণে বসতভিটা বিলীন হয়ে গেলে সর্বস্ব হারিয়ে তারা বেড়িবাঁধের পাশে অস্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। এখন বর্ষা মৌসুমে তাদের উচ্ছেদ করা হলে কোথাও আশ্রয় নেওয়ার মতো সুযোগ তারা দেখছেন না।
জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল গণি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ সংস্কার বা সীমান্ত নিরাপত্তা সড়ক নির্মাণ কাজে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরাও চাই এই কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে অন্য জায়গায় সরে যেতে। কিন্তু যে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে, এত কম সময়ে জেলে পরিবারলো অন্য জায়গায় সরে যেতে পারবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, অন্তত বর্ষার সময়টুকু যাতে আমরা থাকতে পারি।’
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “নাফনদের তীরে বেড়িবাঁধের পাশে দুইশ’র মতো পরিবারের বসতি রয়েছে। এদের সবাই ভূমিহীন এবং দরিদ্র জেলে। এমনিতে নাফনদে প্রায় দুই বছর ধরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেরা মানবেতর দিন যাপন করছে। এর মধ্যে তাদের বসতি উচ্ছেদ করা হলে ‘মড়ার উপর খড়ার ঘা’ এর মতো অবস্থা হবে।”
তিনি আরও বলেন, বেশির ভাগ পরিবারের অন্যত্র বসতি স্থাপন দূরে থাক, বর্তমানে অবস্থান করা বাড়িঘর বা স্থাপনা ভাঙার মতো আর্থিক সামর্থ্যই নেই। তাই ভূমিহীন এসব জেলেদের উচ্ছেদ করা হলে দ্রুত পূনর্বাসনেরও ব্যবস্থা নিতে হবে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফের নাফনদের বরাবর পোল্ডারসমূহের আওতায় বাঁধ মেরামত কাজ চলছে। তাই কাজের স্বার্থে শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ায় বাঁধের ওপর স্থাপিত ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।’
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা সড়ক নির্মাণের কারণে বেড়িবাঁধের পাশের স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তবে সেখানে যেসব বসতি রয়েছে তাদের বর্ষাকালে অন্যত্র চলে যাওয়া কঠিন হলে মানবিক বিবেচনায় সময় বাড়ানো যেতে পারে। তবে তাদের সরে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনও সুযোগ নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here